প্রাণীবিদ্যা বিভাগ সম্পর্কে

অনার্স ১৯৭৩ সালে খোলা হয়। সেমিনারে আনুমানিক ৬০০০ বই আছে। সেমিনারে ছাত্র-ছাত্রীদের বসে বই পড়ার ব্যবস্থা আছে। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সেমিনারে নিয়মিত পেপার নেওয়া হয়। সেমিনার হতে অ্যালবামে পাখি মিউজিয়াম বই ( সম্পাদক-প্রফেসর আব্দুল জলিল আহমেদ) প্রকাশ করা হয়। এছাড়াও বিষয় ভিত্তিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যবহারিক ক্লাস পরিচালনা করা হয়। ল্যাবে একসাথে প্রায় ১৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী বসার ব্যবস্থা আছে।দিনাজপুর সরকারি কলেজ অন্তর্ভূক্ত প্রাণিবিদ্যা বিভাগে একটি দৃষ্টিনন্দন মিউজিয়াম রয়েছে। এতে রয়েছে মূল্যবান অনেক প্রাণিসম্পদ। সাথে রয়েছে অতি মূল্যবান পাখি সম্পদ। দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর পূর্বে এই পাখিগুলিকে মমি করা হয়। এই পাখিগুলিকে মমি করেন মি. গিওভ্যানি বারবে। তিনি ছিলেন খ্রিস্টান মিশনারির ধর্মযাজক ও সৌখিন প্রকৃতিবিদ। তিনি দিনাজপুর মিশনারি পরিচালিত সেন্ট যোসেফ উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালক ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ, মায়ানমার, ভারত ও পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এই পাখিগুলি সংগ্রহ করেন এবং উক্ত মিশনারির বিশপ হাউজে স্থাপিত ট্যাক্সিডার্মি মিউজিয়ামে সংরক্ষণ করেন। বদলিজনিত করণে মি. গিওভ্যানি বারবে দিনাজপুর ত্যাগ করার পর এই মূল্যবান সম্পদ দিনাজপুর সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে আনয়ন করার জন্য মুখ্য ভূমিকা পালন করেন তৎকালীন শিক্ষক প্রফেসর জুলেখা খাতুন, প্রফেসর মোঃ নাজিম উদ্দিন, প্রফেসর মোঃ পিয়ার উদ্দিন আহমেদ। তাঁদের সাথে আরও ছিলেন সম্মানিত অনেক শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ। তাঁরা এই সম্পদ রক্ষায় দিনাজপুর রেল স্টেশন পর্যন্ত গিয়েছিলেন। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও দিনাজপুরের কৃতি সন্তান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফিরোজজামান বিপুল সংখ্যক পাখি সনাক্তকরণে বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর আব্দুল জলিল আহমেদকে সঠিক দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। এই মিউজিয়ামে ১৯টি বর্গের ১৬৬টির অধিক পাখির মমি রয়েছে। পাখি ছাড়াও এই মিউজিয়ামে রয়েছে বাহারি রকমের অমেরুদন্ডী ও মেরুদন্ডী প্রাণীর সমাহার। যেমন- বন রুই, হাঙ্গর, অক্টোপাস , বিভিন্ন প্রজাতির সাপ ও বিভিন্ন বয়সের মানব ভ্রুণ।